বিশ্বব্যাপী চলমান সেমিকন্ডাক্টর বা ‘চিপ’ সংকট আসন্ন উৎসবের মরসুমে কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও এই অতিক্ষুদ্র কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশের অভাবের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিক্রির ওপর।
সংকটের কারণ ও প্রভাব: করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একদিকে যেমন অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) এবং অনলাইন নির্ভর হওয়ায় ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও পিসির চাহিদা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে লকডাউন এবং উৎপাদন কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতার কারণে চিপ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এই সংকটের ফলে কম্পিউটার কোম্পানিগুলো তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিভাইস উৎপাদন করতে পারছে না। বিশেষ করে, উন্নত মানের গ্রাফিক্স কার্ড (GPU) ও প্রসেসর (CPU) নির্ভর গেমিং ল্যাপটপ বা উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারগুলির উৎপাদনে তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। উৎসবের সময়, যখন সাধারণত কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন এই ঘাটতির কারণে একদিকে যেমন পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তেমনি ক্রেতাদের পছন্দের মডেল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর ফলে কম্পিউটার কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশিত মুনাফা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর সংকট কেবল কম্পিউটার শিল্পকেই নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় যানবাহন (Automobile), গেমিং কনসোল (Gaming Consoles) এবং স্মার্ট ডিভাইসসহ ১৬৯টিরও বেশি শিল্পকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞ মতামত: শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট রাতারাতি মিটবে না। চিপ উৎপাদন কারখানা বা ‘ফ্যাব’-এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে অনেক সময় ও বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন। ফলে, এই বছর উৎসবে ক্রেতারা ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্টক ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।
প্রাসঙ্গিক খবর (Related News)
১. অটোমোবাইল শিল্পে ধাক্কা: চিপ সংকটের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতারাও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক গাড়ির বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ফাংশনে চিপের ব্যবহার বেশি হওয়ায় নতুন গাড়ির ডেলিভারিতেও রেকর্ড বিলম্ব দেখা দিচ্ছে।
২. দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: সংকটের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ অঞ্চলে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনে (Fab Plants) বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা ও বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে।







