আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (International Space Station – ISS) বাইরে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডের কাজের জন্য মহাকাশচারীরা যে দুটি স্পেসওয়াক বা মহাকাশে হাঁটা (Spacewalk) সম্পন্ন করবেন, তার সরাসরি সম্প্রচারের সময়সূচি ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। দুটি আলাদা দিনে এই মহাকাশ পদযাত্রাগুলি অনুষ্ঠিত হবে এবং নাসা তাদের নিজস্ব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা সরাসরি সম্প্রচার করবে, যাতে বিশ্বের সাধারণ মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারে।
এই স্পেসওয়াকগুলির প্রধান উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি ঘটানো এবং পুরানো কিছু হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করা। প্রতিটি স্পেসওয়াকই প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলতে পারে। মহাকাশচারীরা স্টেশনের বাইরে এসে নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে যে কাজগুলো করেন, তা মহাকাশ স্টেশনের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতার জন্য অত্যাবশ্যক। এই কাজগুলি অত্যন্ত জটিল, যেখানে মহাকাশচারীদের জীবন রক্ষাকারী স্যুট (Spacesuit) পরিধান করে চরম প্রতিকূল পরিবেশে সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়।
নাসা জানিয়েছে, স্পেসওয়াক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তাদের সম্প্রচার শুরু হবে, যেখানে অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকাররা মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি, কাজের উদ্দেশ্য এবং মহাকাশে তাদের চ্যালেঞ্জগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেবেন।
প্রাসঙ্গিক খবর (Related News)
১. ভারতের গগনযান মিশন: মহাকাশে মানব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও। ইসরো (ISRO)-এর গগনযান (Gaganyaan) মিশনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ভারতীয় মহাকাশচারীরাও পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে স্পেসওয়াক বা এক্সট্রাভেহিকুলার অ্যাক্টিভিটি (EVA) সম্পন্ন করবেন।
২. স্পেসওয়াকের ঝুঁকি: মহাকাশে একটি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মহাকাশচারীদের ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ড (Micrometeoroid) বা মহাকাশের আবর্জনা থেকে আঘাতের ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও, স্যুট-এর কোনো ত্রুটি বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যে কারণে মহাকাশ সংস্থাগুলো কঠোর নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করে। (সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট)







